রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

এক হাজারের বেশি অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ ভাসমান বৈদেশিক মুদ্রার বাণিজ্য করছে: সিআইডি প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ই-কণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক:: দেশে অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ মাত্র ২৩৫টি। আর এক হাজারের বেশি অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ ভাসমান বৈদেশিক মুদ্রার বাণিজ্য করছে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে অন্তত ৭৫ লাখ টাকা।

বুধবার দুপুরে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী মিয়া।

সিআইডি প্রধান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ২৩৫টি লাইসেন্সধারী বৈধ মানি এক্সচেঞ্জ রয়েছে। এর বাইরে এক হাজারের বেশি অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’ এছাড়াও অনেকে নাম-ঠিকানাবিহীন ভাসমান অবস্থায় হাতে-হাতে, কাঁধে ব্যাগ বহন করে মতিঝিল, গুলশান, উত্তরা এবং বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ব্যবসা করে আসছে।

সিআইডি প্রধান জানান, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডলারের দাম বাড়িয়েছে একটি চক্র। এই চক্রটির কারণে ৮৫ টাকার ইউএস ডলার ১২৩ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছে।

এর আগে অবৈধ মানি একচেঞ্জ ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় মঙ্গলবার সিআইডির বিশেষ টিম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এই অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান দেশি-বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- আবু তালহা ওরফে তাহারত ইসলাম তোহা, আছাদুল শেখ, হাছান মোল্ল্যা, আব্দুল কুদ্দুস, হাসনাত এ চৌধুরী, মো. শামসুল হুদা চৌধুরী ওরফে রিপন, মো. সুমন মিয়া, তপন কুমার দাস, আব্দুল কুদ্দুস, কামরুজ্জামান রাসেল, মো. মনিরুজ্জামান, মো. নেওয়াজ বিশ্বাস, মো. আবুল হাসনাত এবং মো. শাহজাহান সরকার।

এসময় তাদের কাছ থেকে এক কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার ৮২৬ টাকা দামের ১৯টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাসহ মোট এক কোটি ৯৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৬ টাকা জব্দ করা হয়।

মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে জালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি বিরাজমান। বাংলাদেশও এর অবশ্যম্ভাবী প্রভাব পড়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে দেশের কিছু অসাধু বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসায়ী অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রার কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।

সিআইডি প্রধান বলেন, অধিক মুনাফার জন্য মার্কিন ডলার মজুদ করে দাম বাড়াচ্ছে। ৮৫ টাকার মার্কিনডলার ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এ কাজে অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জের বা চেঞ্জারের যেমন ভূমিকা ছিল তেমনি কিছু কিছু বৈধমানি এক্সঞ্জের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ডলারের ঊর্ধগতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় সিআইডি ইতোমধ্যে বেশ কিছু অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, প্রাপ্ত তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৩৫ টি লাইসেন্সধারী বৈধ মানি এক্সচেঞ্জ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রায় এক হাজারের বেশি অধিক অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও অনেকে নাম-ঠিকানাবিহীন ভাসমান অবস্থায় হাতে-হাতে, কাঁধে ব্যাগ বহন করে মতিঝিল, গুলশান, উত্তরা এবং বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ব্যবসা করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিআইডি প্রধানের সার্বিক তত্বাবধানে ও নির্দেশনায় অবৈধভাবে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা এবং এর আড়ালে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার সংক্রান্ত অভিযান চলমান রয়েছে। তাই মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় সিআইডির বিশেষ টিম ঢাকা মহানগরীর পাঁচটি জায়গায় (গুলশান-১, রিংরোড, মোহাম্মদপুর, আশকোনা, এবিমার্কেট, উত্তরা এবং চায়না মার্কেট, উত্তরা) একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানে আবু তালহা ওরফে তাহারত ইসলাম তোহা, আছাদুল শেখ, হাছান মোল্ল্যা, আব্দুল কুদ্দুস, হাসনাত এ চৌধুরী, মো. শামসুল হুদা চৌধুরী ওরফে রিপন, মো. সুমন মিয়া, তপন কুমার দাস, আব্দুল কুদ্দুস, কামরুজ্জামান রাসেল, মো. মনিরুজ্জামান, মো. নেওয়াজ বিশ্বাস, মো. আবুল হাসনাত এবং মো. শাহজাহান সরকার নামের ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব অফিস এবং ভাসমান যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি (লাইসেন্স) ছাড়াই বৈদেশিক মূদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে উল্লেখিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা সমমূল্যের বিদেশী মূদ্রা অবৈধভাবে ক্রয়-বিক্রয় করে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com